প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৩:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ফের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর ব্যবস্থাপনা আরোপ করেছে ইরান। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক জরুরি বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা স্থগিত করে প্রণালিটিকে পুনরায় পূর্বের সামরিক তদারকিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, যৌথ সামরিক কমান্ডের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে পুনরায় সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করার প্রতিবাদে এবং তেহরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানি পতাকাবাহী ও ইরানগামী জাহাজের চলাচলে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করবে, ততক্ষণ এই জলপথের ওপর কঠোর সামরিক তদারকি বজায় থাকবে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথটি দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর এটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। এরপর পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতায় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং লেবানন পরিস্থিতির উন্নতির প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অনমনীয় ‘অবরোধ’ নীতি এবং পারমাণবিক ইস্যুতে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রণালিটি পুনরায় সামরিক বেষ্টনীতে আবদ্ধ হলো।
এই নতুন অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, তার আগে ইরানের এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে হরমুজ প্রণালির এই ‘স্ট্যাটাস কু’ বা বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর কোনো পথ বের হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন