বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১১:৩৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

অভিনয়ের জন্য সবকিছু করতে রাজি নন রাশমিকা, জানালেন নিজের সীমারেখা

অভিনয়ের প্রয়োজনে সবকিছু করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি বা খোলামেলা পোশাক পরার বিষয়েও নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে গুরুত্ব দেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে নিজের আপত্তির কথা নির্মাতাদের জানানো সব সময় সহজ নয় বলেও স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ’ অনুষ্ঠানে নারী চরিত্রের উপস্থাপন, পর্দায় শরীর প্রদর্শন এবং অভিনয়শিল্পীদের নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ জানানোর স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন রাশমিকা।

অনুষ্ঠানটির নবম সিজনে স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। আলোচনায় উঠে আসে রাম চরণের ‘পেদ্দি’ সিনেমায় জাহ্নবী কাপুরের চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কও।

বুচি বাবু সানা পরিচালিত ‘পেদ্দি’ সিনেমায় রাম চরণের বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাহ্নবী কাপুর। সিনেমাটিতে অচিয়াম্মা চরিত্রে তাঁর উপস্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়। দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব, গল্পে তার ভূমিকা ও নিজস্ব সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরার চেয়ে তার শারীরিক সৌন্দর্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কিছু দৃশ্যে ক্যামেরার দৃষ্টিভঙ্গি ও সংলাপ নিয়েও আপত্তি ওঠে। বিশেষ করে জাহ্নবীর শরীরের নির্দিষ্ট অংশের ওপর বারবার ক্যামেরা কেন্দ্রীভূত করা এবং চরিত্রটির অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাম চরণের চরিত্রের চুম্বনের দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা হয়। বিতর্কের পর সিনেমাটির কিছু দৃশ্য সরিয়ে ফেলা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাশমিকা বলেন, কোনো কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনির মতো পোশাক পরতে হতে পারে। তবে তাতে শরীরের অতিরিক্ত অংশ প্রদর্শনে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। বাণিজ্যিক সিনেমায় কখনো এমন পোশাক বা দৃশ্যের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মেলে না। সে ক্ষেত্রে নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করে দেন তিনি।

রাশমিকার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পছন্দের অধিকাংশ পরিচালক বিষয়টি বোঝেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তাই কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করতে চান, যাঁরা অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেন।

নিজের আপত্তির কথা জানাতে বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে আলোচনা করেন বলেও জানান রাশমিকা। তাঁর কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে সাহস পান তিনি।

রাশমিকার বক্তব্য অনুযায়ী, বিজয়ও মনে করেন, অভিনয়শিল্পীদের পাশে এমন মানুষ থাকা জরুরি, যাঁরা প্রয়োজনের সময় ‘না’ বলার সাহস জোগাবেন। কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর অভিনয়শিল্পীদের ওপর একধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তাঁদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা অভিনয় করতে রাজি হয়েছেন বলে চরিত্রের প্রয়োজনে সবকিছু করাই তাঁদের দায়িত্ব।

এই চাপের কারণে নিজের অস্বস্তির কথা জানালে অপেশাদার হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই আশঙ্কা থেকেই আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হয়ে যান শিল্পীরা—এমনটাই জানিয়েছেন রাশমিকা।

 

মন্তব্য করুন