বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:৩৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চোখের সামনেই মায়ের হাতে বাবা খুন, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেত্রী

ছবি : সংগৃহিত

অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী শার্লিজ থেরন সম্প্রতি তার জীবনের সবচেয়ে মর্মান্তিক ও ভয়ংকর এক স্মৃতি নিয়ে নতুন করে আলোকপাত করেছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে ঘটে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা কীভাবে তার জীবনকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল, তা নিয়ে তিনি অকপট কথা বলেছেন। সেই ভয়াবহ স্মৃতির বোঝা বয়ে না বেড়িয়ে বরং অন্য ভুক্তভোগীদের সাহস জোগাতে তিনি এই সত্য প্রকাশ্যে আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

ঘটনাটি ১৯৯১ সালের, দক্ষিণ আফ্রিকায় থেরনের নিজ বাড়িতে। তার বাবা চার্লস থেরন ছিলেন চরম মদ্যপ এবং প্রায়ই পারিবারিক অশান্তি তৈরি করতেন। সেই রাতে তিনি মদ্যপ অবস্থায় সহিংস আচরণ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে অস্ত্র হাতে বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা চালান। থেরন স্মৃতিচারণা করে জানান, বাবার অস্থিরতা দেখে তিনি আগেই বিপদের আভাস পেয়েছিলেন এবং নিজের ঘরে আলো নিভিয়ে ভয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে তার বাবা দরজায় গুলি চালান, যা প্রাণনাশের এক বাস্তব হুমকি তৈরি করেছিল।

এই প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে শার্লিজ থেরনের মা গেরদা মরিৎজ আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে বাধ্য হন। মা ও মেয়ে একটি ঘরে আশ্রয় নিলেও আক্রমণ থামছিল না। শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার তাগিদে গেরদা মরিৎজের চালানো গুলিতে চার্লস থেরন নিহত হন। দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন অস্থির সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। থেরন মনে করেন, এটি এমন এক কঠোর বাস্তবতা যা অনেক পরিবারেই ঘটে, কিন্তু সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।

শার্লিজ থেরন বর্তমানে নিজেকে এই ঘটনার ‘শিকার’ বা ‘আতঙ্কিত’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান না। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, পারিবারিক সহিংসতার মতো বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে কথা বলা জরুরি, যাতে অন্য নারীরা নিজেদের একা মনে না করেন। তার মতে, এসব অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে একটি সচেতন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

ব্যক্তিগত জীবনের এই তিক্ত অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে থেরনকে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে একজন আপসহীন যোদ্ধায় পরিণত করেছে। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে কাজ করছেন এবং বিশ্বজুড়ে পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তার এই সাহসী অবস্থান অনেক নিগৃহীত নারীর জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

মন্তব্য করুন