প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১০:৫১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যখন দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই ইরানকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সম্মানজনক চুক্তি না হলে ইরানের ওপর পুনরায় সামরিক হামলা বা বোমা বর্ষণ শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
এয়ার ফোর্সে ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান:
যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা: বর্তমানে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর না-ও বাড়ানো হতে পারে।
অবরোধ ও হামলা: যদি সমঝোতা না হয়, তবে ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান নৌ-অবরোধ কেবল বহালই থাকবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক অ্যাকশনে ফিরে যাবে।
সরাসরি মন্তব্য: ট্রাম্প বলেন, “অবরোধ চলবে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের আবার বোমা হামলা শুরু করতে হতে পারে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সোমবারের বৈঠকের আগে তেহরানকে চাপে রাখতেই ট্রাম্প এই ‘অ্যাগ্রেসিভ’ বা আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই হুমকির মধ্যেই আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী:
প্রতিনিধিদলের আগমন: আলোচনা সফল করতে আগামীকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলগুলো ইসলামাবাদে এসে পৌঁছাবেন।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান: টানা ৪০ দিনের ছায়াযুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে চাইছে পাকিস্তান ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো।
একদিকে সোমবারের আলোচনার টেবিলে শান্তির প্রত্যাশা, অন্যদিকে ট্রাম্পের আকাশপথে হামলার হুমকি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক জটিল সমীকরণের মুখে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখা এবং ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে তেহরান শেষ পর্যন্ত কতটা ছাড় দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী সপ্তাহের সংঘাত নাকি শান্তি।
ইসলামাবাদের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে কোনো ইতিবাচক ফলাফল আসার সম্ভাবনা কতটুকু বলে আপনি মনে করেন?
মন্তব্য করুন