প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১০:১০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
৪৬ বছরের দীর্ঘ বৈরিতা কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) এই উচ্চ-পর্যায়ের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। আলোচনায় অংশ নিতে আগামীকাল রোববারই (১৯ এপ্রিল) দুই দেশের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পাকিস্তান ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের দৌড়ঝাঁপ: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত বুধবার সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফর করেছেন। একই সময়ে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে কাটিয়ছেন ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়, যেখানে তিনি ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
নিরাপত্তা প্রস্তুতি: ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তারিখ ঘোষণা না করলেও শহরজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য প্রদেশ থেকে হাজার হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী রাওয়ালপিন্ডিতে তলব করা হয়েছে। এর আগে প্রথম দফার বৈঠকে ১০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
শান্তি চুক্তির সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যদি দুই পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবে তিনি নিজেই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, বর্তমানে আলোচনার টেবিলে থাকা প্রায় সব শর্তই তেহরান মেনে নিয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা ১৯৭৯ সালের পর ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি সাক্ষাৎ। তবে সেই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রতিনিধিরা নিজ দেশে ফিরে যান। বর্তমানে পাকিস্তান সরকার অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আয়োজন করছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি গণমাধ্যমগুলোকে অসমর্থিত সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় দফার এই বৈঠকে মূলত নিচের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেতে পারে:
১. স্থায়ী যুদ্ধবিরতি: ৪৬ দিনের ছায়াযুদ্ধ ও উত্তেজনার অবসান।
২. পারমাণবিক কর্মসূচি: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত ও মজুত হস্তান্তর।
৩. অর্থনৈতিক অবরোধ: ইরানের জব্দ হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সম্পদ মুক্ত করা।
৪. আঞ্চলিক নিরাপত্তা: হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা।
আগামী সোমবারের এই সম্ভাব্য বৈঠক কি কয়েক দশকের শত্রুতা মিটিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো ভোরের সূচনা করবে? পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদের দিকে।
মন্তব্য করুন