প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১০:০৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সাতটি দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে যেমন যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায় না, তেমনি আলোচনায় কোনো অগ্রগতিও সম্ভব নয়।
গালিবাফ তাঁর বার্তায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর। তিনি ট্রাম্পের দাবি নস্যাৎ করে বলেন:
অবরোধ বনাম চলাচল: ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে না।
সার্বভৌমত্ব: এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত রুট এবং তেহরানের অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।
সামাজিক মাধ্যম বনাম বাস্তবতা: গালিবাফের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথ বা হরমুজ প্রণালির নিয়মকানুন কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল বা এক্স) নির্ধারিত হতে পারে না।
এর আগে শুক্রবার দিনের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে বড় কোনো মতপার্থক্য নেই। ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো ছিল:
১. ইরান হরমুজ প্রণালি কখনোই বন্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
২. ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে রাজি হয়েছে।
৩. তেহরান অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে।
৪. যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরান সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ করছে।
৫. আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
৬. ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ ততক্ষণ বহাল থাকবে, যতক্ষণ না চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন হয়।
৭. ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘স্থায়ী শান্তি’র পথে বড় অর্জন হিসেবে দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকরা একে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে দেখছেন।
আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে ট্রাম্পের দাবি করা ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতি’র কোনো সুরাহা হয় কি না, কিংবা ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে তেহরান তাদের অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
মন্তব্য করুন