প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ০৩:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নিয়ে কোনো অজুহাত সহ্য করা হবে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্যামেরা বন্ধ থাকলে তা ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’ বলে সন্দেহ করা হবে। পরীক্ষার কোনো দলিল যেন তামাদি না হয়, সবকিছু সংরক্ষণ করতে হবে।
শনিবার রাজশাহীতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে, যা শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সংশ্লিষ্ট সবার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে তা তাদের নখদর্পণে রয়েছে এবং এখন থেকে সবকিছু নজরদারিতে থাকবে।
তিনি জানান, শূন্য শতাংশ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের পূর্বঘোষণা থাকলেও মানবিক বিবেচনায় এবার তা কার্যকর করা হচ্ছে না। তবে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘পোষ্য কোটা’র কড়া সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে পাশ করেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে। কেউ বিনা পরীক্ষায় বা বিশেষ সুবিধায় পার পাবে না। তিনি প্রস্তাব করেন, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সন্তানদের বাধ্যতামূলকভাবে জেলা স্কুলে পড়ানো উচিত, যাতে সরকারি স্কুলগুলোর মানোন্নয়নে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ তখনই অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে যখন তাকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় সংঘবদ্ধ নকল চক্র চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়ানো বা ফলাফলে ধস নামানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। স্থানীয় প্রশাসনকে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তিন বোর্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন