তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১৯ ঘন্টা আগে, ১২:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

৭ মার্চসহ কয়েকটি জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল সরকার

তরুণ কণ্ঠ গ্রাফিক্স

সরকারি দিবস উদযাপন সংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে বর্তমান সরকার। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর জারি করা পরিপত্রে যে কয়েকটি জাতীয় দিবস বাতিল করা হয়েছিল, নতুন সরকারও সেই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রেখেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ আগস্ট শেখ কামাল-এর জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব-এর জন্মবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস এবং ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস বাতিলই থাকছে।

নতুন পরিপত্রেও আগের মতো দিবসগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে, ক, খ ও গ শ্রেণি। ক-শ্রেণিতে থাকা জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি দিবস ও উৎসব যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হবে।

এ তালিকায় ৫ আগস্টকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন হিসেবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালীন রংপুরে পুলিশের গুলিতে ছাত্র আবু সাঈদ নিহত হওয়ার দিন ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও বহাল রয়েছে।

খ-শ্রেণিতে রাখা হয়েছে ৩৭টি দিবস। যেসব দিবস ঐতিহ্যগতভাবে পালন করা হয় অথবা পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক সেগুলো উল্লেখযোগ্য পরিসরে আয়োজন করা যেতে পারে। এসব অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা অংশ নেবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ-শ্রেণিতে থাকা ৩৫টি দিবস সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সরকারি বরাদ্দ থাকবে না এবং মন্ত্রীরা অংশ নেবেন কি না, তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, তিন শ্রেণির বাইরেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কিছু দিবস পালন করে থাকে, যেগুলোর অনেকই পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমান সময়ে তেমন গুরুত্ব বহন করে না। সরকারি সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের জন্য এসব দিবস পালনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সংযত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১–৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর–৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ (নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ), সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্য পক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

দিবস পালনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাজসজ্জা বা বড় আকারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তবে বেতার ও টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। কর্মদিবসে বড় সমাবেশ বা শোভাযাত্রা আয়োজন না করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া কোনো সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি হলে তা সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মসূচি যেন অফিসের নিয়মিত কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একই ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস একই তারিখে একত্রে পালনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন