তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১৯ ঘন্টা আগে, ১২:১৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

সংগ্রহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হয়।

অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য একটি মাত্র মনোনয়ন জমা পড়েছে। মনোনীত ব্যক্তি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং তিনি দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন।

এরপর প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম-কে আহ্বান জানানো হয়। তিনি স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হলে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীর বিক্রম’ লাভ করেন। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ার পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রেও তার উল্লেখযোগ্য পরিচিতি ছিল। তিনি তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন এবং ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিন বছর পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পারিবারিকভাবেও রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি প্রথমে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।

খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ২৯ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে অষ্টম জাতীয় সংসদে ২০০১ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ২২ মে পর্যন্ত পাটমন্ত্রী এবং ২০০৩ সালের ২২ মে থেকে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। বিভিন্ন সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন ৮১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় এবার সপ্তমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।

মন্তব্য করুন