প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৪:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি, ইরান ও তার কৌশলগত স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনি বলেন, ইরানের ওপর আঘাত চলতে থাকলে এই অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেলও’ বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে দেওয়া হবে না। তার মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর।
যুদ্ধের দশম দিনে এসে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, ট্রাম্প বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতে যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তির মিথ্যা প্রদর্শন করছেন। নায়েইনির ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নিজের সেনাদের হতাশা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতেই এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত।
আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প যে আশ্বাস দিচ্ছেন, বাস্তবতা তার বিপরীত। নায়েইনির মতে, ইরানের মিসাইল ও ড্রোন সক্ষমতার কারণে মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধবিমানগুলো ইরান সীমান্ত থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন লক্ষ্য করে মাত্র চারটি মিসাইল ছোড়ার পর মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ভীত’ সেনারা নিরাপদ দূরত্বে সরে যায়। একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগণকে ‘হিউম্যান শিল্ড’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে করা বক্তব্যও নাকচ করেন আইআরজিসি মুখপাত্র। ট্রাম্পের দাবির জবাবে নায়েইনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বর্তমানে এক টনেরও বেশি বিস্ফোরকবাহী ওয়ারহেড যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করা হচ্ছে।
জ্বালানি বাজার প্রসঙ্গে নায়েইনি বলেন, ট্রাম্প তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও যুদ্ধের প্রথম নয় দিনেই দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ না হলে এই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে, আর তখন দামের ওপর কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে না।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন তিনি। নায়েইনির দাবি, ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে একজন ‘বিপ্লবী ও আমেরিকা-বিরোধী’ ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, প্রিয় খামেনি এখন আরও তরুণ ও শক্তিশালী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন, যা নতুন নেতা মোজতবার নেতৃত্বে ইরানের নতুন উদ্দীপনার প্রতিফলন।
আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে ১০টির বেশি উন্নত মার্কিন রাডার ব্যবস্থা এবং বিপুল সংখ্যক দামী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।
বিবৃতির শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন নায়েইনি। তিনি বলেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই মনে করেন ইরানের মিসাইল কোনো ক্ষতি করতে পারছে না, তাহলে সাংবাদিকদের কেন ক্ষয়ক্ষতির ছবি তুলতে দেওয়া হচ্ছে না এবং কেন সেনাদের হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখা হচ্ছে। তার হুঁশিয়ারি, যুদ্ধের সমাপ্তি যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই নির্ধারণ করবে এবং এ বিষয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।
এছাড়াও আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সুপার-ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান এবং সংঘাতের পরিধি আরও বাড়ানোর জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।
মন্তব্য করুন