দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বিরামপুরে হতদরিদ্র পরিবারের কলাবাগান কেটে ফেলার অভিযোগ

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে হতদরিদ্র পরিবারের শতাধিক কলা গাছ, কয়েকটি সজনে গাছসহ অন্যান্য ফলের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

‎দিনাজপুরের বিরামপুরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে হতদরিদ্র এক পরিবারের দখলে থাকা জমিতে লাগানো প্রায় একশত কলার গাছ, কয়েকটি সজনে গাছ ও অন্যান্য ফলের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মোছা. রাজিয়া বিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগকারী রাজিয়া (৫৫) বিরামপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের মাহমুদপুর গ্রামের হঠাৎপাড়া এলাকার এমদাদুল হকের (৬০) স্ত্রী।

‎লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, বিরামপুর পৌর শহরের মাহমুদপুর হঠাৎপাড়া এলাকায় নিজেদের বসতবাড়িসহ ভোগ দখলকৃত ৪৭ শতক জমি নিয়ে একই এলাকার মৃত রফাত উল্লাহর তিন ছেলে মো. নজরুল, মো. মতিয়ার, মো. মোফাজ্জল এবং মো. মতিয়ারের ছেলে মো. এখলাছ ও মো. নজরুলের ছেলে মো. ওয়াহেদুলের সাথে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা চলে আসছে। অনেক দিন থেকেই অভিযুক্তরা জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত পাঁচজন আরো লোকজন নিয়ে জমিটি দখলের উদ্দেশে জমিতে লাগানো কলার গাছগুলো কেটে ফেলে।

‎রাজিয়া বেগম আরও জানান, তার স্বামী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তাদের কোনো সন্তান জীবিত নেই। দুই মেয়ে ছিল, তারাও মারা গেছে। মৃত এক মেয়ের এতিম দুই ছেলেকে নিয়ে এই জমির এককোণে তারা স্বামী স্ত্রী ভাঙাচোরা কুঁড়ে ঘরে বসবাস করেন। জমিতে লাগানো কলার বাগানের আয় এবং দিনমজুরি করে কোনোমতে তাদের সংসার চলে। এমতাবস্থায় তাদের লাগানো কলার গাছগুলো প্রতিপক্ষরা কেটে ফেলায় সংসার চালানো নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। তার উপর প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা জমির দখল ছেড়ে দিতে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

‎অভিযুক্তদের একজন মো. মতিয়ার মুঠোফোনে জানান, ৪৭ শতক জমিটি তাদের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এবং জমি তাদেরই দখলে রয়েছে দাবি করেন। এই জায়গার মধ্যে বেদখল হওয়া হাফ শতক জায়গার জন্য উচ্ছেদ মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সেই জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো আছে। গাছগুলো যাতে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য তারা কলার গাছগুলো কেটেছেন বলে জানান তিনি।

‎এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাবার কথা স্বীকার করে বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুপক্ষকেই শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন