প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০২:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ আর পরাশক্তিদের পাল্টাপাল্টি হামলার চরম মূল্য দিতে হলো এক নিরপরাধ বাংলাদেশি শ্রমিককে। বাহরাইনের একটি শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ কেড়ে নিয়েছে সন্দ্বীপের মোহাম্মদ তারেকের (৪৮) প্রাণ। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে প্রবাসে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানো এই মানুষটি এখন নিথর দেহ হয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায়।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার আঁচ লাগে বাহরাইনের শান্ত বন্দরে। সোমবার ভোরে যখন মানামার নিকটবর্তী শিপইয়ার্ডে তারেক ও তার সহকর্মীরা কাজ করছিলেন, তখনই আকাশ থেকে ধেয়ে আসে ক্ষেপণাস্ত্রের ধাতব খণ্ড। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছে, "রাজধানী মানামার কাছে সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যে আগুন লেগেছিল তা নেভানো হয়েছে।"
কিন্তু আগুন নেভানো সম্ভব হলেও ফেরানো যায়নি তারেককে। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও দুই বাংলাদেশি। বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন প্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ তারেক (৪৮) নিহত ও দুইজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।"
নিহত তারেক সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। ২৭ বছর আগে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মরুভূমির দেশে। তিনি ছিলেন তার পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে আজিমপুরে বইছে কান্নার রোল। তার ফুফাতো ভাই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই খবর নিশ্চিত করার পর থেকেই শোকাতুর হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। আঞ্চলিক এই যুদ্ধের ভয়াবহতায় এখন সাধারণ শ্রমিকদের জীবনও ঝুঁকির মুখে।
শিপইয়ার্ডের সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন তারেকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন