প্রকাশিত: ৮ মে, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো শান্তি চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের একচ্ছত্র আধিপত্য অটুট থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা আমোস হোচস্টাইন। ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি পরিস্থিতির বাস্তবচিত্র তুলে ধরে বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কমার কোনো সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে নেই।
হোচস্টাইন সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন হয়তো চুক্তির কাগজে জলপথ উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করবে, কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো তা বিশ্বাস করবে না; কারণ তারা জানে এই পয়েন্টে ইরানের হাতে কার্যত ‘ভেটো’ ক্ষমতা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যেমন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ও আলোচনা ব্যর্থ হলে বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সংঘাতের ফলশ্রুতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের তেল রপ্তানি ইতোমধ্যে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কাতারও গ্যাস রপ্তানিতে জুন পর্যন্ত ‘ফোর্স মেজার’ জারি করেছে। কেবল সৌদি আরব ও আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে আংশিক রপ্তানি ধরে রেখেছে।
হোচস্টাইন বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে কৃত্রিম ও প্রকৃত দরের বড় অসংগতি প্রকাশ পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। কাগজে-কলমে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১০ ডলার থাকলেও বাস্তবে ১৫০ থেকে ১৭০ ডলার গুনতে হচ্ছে; শ্রীলঙ্কার মতো দেশে যা ছুঁয়েছে ২৮৬ ডলারে। এই সংকট ধাপে ধাপে জাপান-কোরিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোয়ও আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি জানান, বিকল্প অবকাঠামো নির্মাণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইতোমধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পথে হাঁটছে।
মন্তব্য করুন