তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৪৯ মিনিট আগে, ০৫:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

গুম প্রতিরোধ ও সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো

বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থী সহায়তা, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য রোধ, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ নানা দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্টিফেন রড্রিক্স বলেন, “আমরা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আপনি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন জেনে আমরা আনন্দিত। আপনি চাইলে আমরা এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে আগ্রহী।”

বৈঠকে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ ও অবকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চাই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই না।”

এদিকে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য রোধে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাশ হয়েছে। আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন।”

এছাড়া প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং এটি আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস হতে পারে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।” নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

সাক্ষাৎকালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের উদার ও ধর্মীয় সহনশীল ভাবমূর্তি সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন স্টিফেন রড্রিক্স। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বোতন কর্মকর্তা এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন