প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৩১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি রুশ ড্রোন হামলায় ট্রেনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার কিছুক্ষণ আগে একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যাত্রা করেছিলেন। তবে হামলায় কেউ হতাহত হননি। খবর বিবিসির।
ইউক্রেনের ইয়াহোদিন এলাকায় রুশ ড্রোনটি আঘাত হানে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনের সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কিয়েভে ইয়াল্টা ইউরোপিয়ান স্ট্র্যাটেজি (ওয়াইইএস) সম্মেলন শেষে বরিস জনসন, যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে ফিরছিলেন।
রাশিয়া জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ইউক্রেনের ‘রেল অবকাঠামোতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কোম্পানি উক্রজালিজনিতসিয়া বলেছে, হামলার লক্ষ্য সম্ভবত কূটনৈতিক ট্রেনও হতে পারে।
ইয়াহোদিন স্টেশনে হামলার সময় থাকা আরেকটি ট্রেনের যাত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রিয়াস ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, এটি এমন এক নেতার কাজ, যিনি ইউক্রেনের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করতে চাইছেন।
ইউক্রেনের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, রুশ হামলার আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেনটি স্টেশন ছেড়েছিল। হামলার মাত্র ১৫ মিনিট আগে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে।
সম্মেলন শেষে একই পথে ফিরছিলেন সাবেক সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্টও। তিনি জানান, তার ট্রেন থামার পর যাত্রীদের সম্ভাব্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে জানানো হলে ট্রেনটি আবার যাত্রা শুরু করে এবং নিরাপদে পোল্যান্ডের দোরোহুস্ক সীমান্ত স্টেশনে পৌঁছায়।
বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি স্থির ইউক্রেনীয় ট্রেনে হামলা চালানোর পেছনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কী যুক্তি ছিল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি ঘটনাটিকে প্রতিদিনের ‘এলোমেলো ও অর্থহীন হামলার’ আরেকটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জনসন ইউক্রেনের মিত্রদের দ্রুত দেশটিকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেন, ইয়াহোদিনে হামলা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর দরজায় রুশ ‘সন্ত্রাসের কড়া নাড়ার’ মতো। তিনি মস্কোর ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।
এদিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার কর্মকাণ্ড ক্রমেই বাড়ছে এবং তা পোল্যান্ডের সীমান্তের আরও কাছে চলে আসছে।
বরিস জনসন ও ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কিয়েভে অনুষ্ঠিত ওয়াইইএস সম্মেলন শেষে ফিরছিলেন। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে রাজনীতি, ব্যবসা, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
মন্তব্য করুন