প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ০৭:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আদালতের সাথে মারাত্মক প্রতারণা ও তথ্য গোপন করে একই বিষয়ে বারবার রিট পিটিশন দায়ের করায় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী এবং আবেদনকারীকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আপিল বিভাগ। এই জরিমানার টাকা ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত এই আদেশকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও বিচারকদের এজলাস ত্যাগের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে আপিল বিভাগের ওই নজিরবিহীন ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগ সম্পর্কিত ঘটনায় রিট আবেদনকারী একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে তথ্য গোপন পূর্বক মোট পাঁচটি রিট দায়ের করেন। পূর্বের রিট খারিজের তথ্য গোপন করায় সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী ও আবেদনকারীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। আদেশ দেওয়ার সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন এজলাসে ছিলেন না।
পরবর্তীতে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে অন্য একটি মামলার শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই জরিমানার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান যে, আদালতের সাথে 'সিরিয়াস ফ্রড' বা প্রতারণা করা হয়েছে এবং তাঁরা বিচারিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না।
এর জবাবে ব্যারিস্টার খোকন অপ্রত্যাশিতভাবে বলে বসেন, “আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।” প্রধান বিচারপতি মন্তব্যটি পুনর্বিবেচনা করতে বললে বার সভাপতি তাঁর অবস্থানে অনড় থাকেন। ফলে প্রধান বিচারপতি এটিকে সরাসরি ‘আদালত অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করে আজকের মতো আদালতের কার্যক্রম স্থগিত রেখে এজলাস ত্যাগ করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি সবসময় বিচারিক শৃঙ্খলা ও সততাকে প্রাধান্য দেন এবং আদালতের সাথে প্রতারণাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে থাকেন।
মন্তব্য করুন