প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:২৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ভারতজুড়ে পুনরায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আগের দফায় স্থগিত হওয়া আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণে সোমবার (২৪ আগস্ট) দলটির জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে জানা যায়, আগের আন্দোলন স্থগিতের সময় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আইনি নিশ্চয়তা এবং নিহত নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে কেন্দ্র কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি।
উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় কৌশল নির্ধারণে জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে। আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিতে শিক্ষার্থী, তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকারও উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে, সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে গত ২৫ জুলাই প্রাথমিক আন্দোলন স্থগিত করেছিল দলটি। তবে পরবর্তী সময়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে সিজেপি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গত ১৮ আগস্ট ভারতের সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত একটি শুনানি এই অসন্তোষকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তালিকা জমা দিতে উচ্চ আদালত একাধিক নির্দেশ দেওয়ার পরও মোদি সরকার তা নিশ্চুপভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে বলে সিজেপির দাবি। সুপ্রিম কোর্টের ওই সমন্বিত তালিকা পেলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আওতায় আদালত নিজের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে মামলাগুলো বাতিল করতে পারত।
এর আগে আন্দোলনের তীব্রতায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেও মূল দাবিগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) প্রত্যাহার, আইনি সুরক্ষার সংস্থান ও ক্ষতিপূরণের সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি।
সিজেপি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, পূর্বের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা তাদের দুর্বলতা নয়, বরং সদিচ্ছার প্রকাশ ছিল। সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে মেনে নেওয়া হবে না বলে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন