আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:২০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধকে ‘যুদ্ধের অংশ’ মনে করছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্য অবরোধকে নিছক অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে না দেখে এটিকে সরাসরি যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহসেন ফারখানি যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী কৌশলের কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দেশটির নিরাপত্তা নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ও তেহরানের নিরাপত্তা নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সঙ্গে আলাপে ফারখানি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানকে কোণঠাসা ও পরাস্ত করার কৌশল গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে ওয়াশিংটন তার আন্তর্জাতিক মিত্রদেরও এই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

ঐ বিষয়ে ফারখানি বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধ—দুটিই যুদ্ধের অংশ। তাই এর জবাব দেওয়াকে ইরানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইরানের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের বিশ্লেষণে ফারখানি জানান, ওয়াশিংটনের বহুমুখী চাপের মুখে চীন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইরাক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো বাণিজ্য কিছুটা সীমিত করলে তেহরান তাদের অবস্থাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। তবে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে জানান, বৈশ্বিক এই রাজনৈতিক চাপের সত্ত্বেও এসব দেশ তেহরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক একেবারে ছিন্ন করবে না।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমিয়ে দিলেও চীন, তুরস্কসহ অন্যান্য দেশ তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করবে না।

বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দেশটির বর্তমান সিদ্ধান্ত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে। তবে ভৌগোলিক সান্নিধ্য, ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং সুদৃঢ় সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের কারণে দুই দেশের আন্তঃসম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা সহজ নয়।

এখন পর্যন্ত তেহরান আন্তর্জাতিক প্রস্তাব ও রেজুলেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করেছে। তবে ওয়াশিংটনের ক্রমাগত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে ইরানের সার্বিক নিরাপত্তা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।

মন্তব্য করুন