বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭   ১২ সফর ১৪৪২

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৫৭

শিক্ষা সংকট দূরীকরণে অনলাইন ক্লাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারি হচ্ছে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯। করোনাভাইরাসের নাম শোনেনি পৃথিবীতে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। করোনাভাইরাস কেড়ে নিয়েছে অজস্র মানুষের জীবন। মৃত্যু পুরীতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ।

এই মরণঘাতী ভাইরাসটি মানুষের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। বিশ্বের সব বড় বড় বিজ্ঞানী ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সব কিছুই হার মেনেছে এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাসের কাছে। এখন পর্যন্ত এর কোনো কার্যকরী ঔষধ আবিষ্কার করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

বৈশ্বিক এই মহামারির কারণে বন্ধ রয়েছে বিশ্বের সকল কাজ কর্ম। থমকে আছে পুরো বিশ্ব। সব কিছু থেমে থাকলেও থেমে নেই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরাসরি ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে করোনাকালীন সংকটে শিক্ষা খাতকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। কবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শেষ হবে তা কেউ জানে না। ফলে এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সেশনজট থেকে রক্ষা করতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে নিদর্শনা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউজিসি। সরকার ও ইউজিসির নির্দেশনা মেনেই বিভিন্ন প্রাইভেট ও পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা।

বর্তমানে বিশ্বে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম খুবই জনপ্রিয়। বিশ্বের অনেক দেশেই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ব বিদ্যালয়ের অনলাইন কোর্স গুলো শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে বসে সম্পন্ন করতে পারে।সহজেই অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে।

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে। যদিও পূর্বে বাংলাদেশে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম তেমন একটা ছিল না। কিন্তু করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯, আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোনো সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। করোনাভাইরাস আমাদের দেশের শিক্ষা কার্যক্রমের ধরন পাল্টে দিয়েছে। সংকট কালীন সময়ে সরাসরি ক্লাসের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম। অনলাইন কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই নিয়মিত চলছে অনলাইন ক্লাস। আর এটা সম্ভব হয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে। শিক্ষার্থীদের সেশনজট ও পরীক্ষাজট থেকে রক্ষা করতেই অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকরা সার্বক্ষণিক শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের যে কোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা করছেন।

যদিও অনলাইনে ক্লাস করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হলেও সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠে এগিয়ে যাচ্ছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। করোনা সংকটকে শক্তিতে রূপ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অনলাইন শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করতে অনলাইন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষকরা কোর্স প্লান অনুযায়ী পড়াচ্ছেন, নোটস ও শিট দিচ্ছেন। তাছাড়া ক্লাসের ভিডিও ধারণ করে রাখছেন। যা দেখে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নিতে পারছেন। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির ব্যবহারে পারদর্শী হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। শুধু করোনা নয় বিশ্বে যে কোনো ধরনের মহামারি আসতে পারে। তাই মহামারির কারণে শিক্ষা খাত যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ফলে এগিয়ে যাবে শিক্ষা ব্যবস্থা, রক্ষা পাবে শিক্ষার্থীরা সেশনজট ও অনিশ্চয়তার হাত থেকে।

শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে সরাসরি ক্লাস ও পরীক্ষা। ফলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করতেই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। এতে করে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় অযথা নষ্ট হবে না। তারা যথাযথ সময়ে পড়া লেখা শেষ করে চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন। যা দেশ ও জাতিকে বেকারত্বে চাপ থেকে মুক্তি দিবে।

শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করছে। ফলে সকলের মধ্যে অনলাইন শিক্ষার আগ্রহ জন্মাচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবাই অনলাইন শিক্ষায় আগ্রহী। কোন অভিভাবকই চান না ছেলেমেয়েদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট হোক। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা করোনা সংকট শেষ হলে বিশ্বব্যাপী মন্দা দেখা দিতে পারে। ফলে তখন মানুষের জন্য খাদ্যের জোগান দেয়া হবে চ্যালেঞ্জিং আর এক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমই আমাদের এগিয়ে রাখবে। তাছাড়া করোনাকালীণ ও করোনা পরবর্তী সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে। এক্ষেত্রে অনলাইন শিক্ষা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ। এতে কার সংস্পর্শে আসতে হবে না ফলে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। 

করোনাকালীন ও করোনা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে অনলাইন শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখতে ভূমিকা পালন করবে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। করোনা পরবর্তী সময়ে আমরা যে সরাসরি ক্লাস করতে পারবো কিনা, কত দিন পর শেষ হবে করোনার প্রভাব তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমই হতে পারে সর্বোত্তম বিকল্প উপায়। এ পদ্ধতি অবলম্বন করেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা।

এই বিভাগের আরো খবর