বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ১১:৪৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

‘জিম’ নামে পরিচিত অভিনেত্রীর অভিনয়জীবনের গল্প

শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেছিলেন মাফতুহা জান্নাত। এরপর পড়াশোনার কারণে দীর্ঘ বিরতি। ২০২৩ সালে আবার অভিনয়ে ফেরেন দর্শকের কাছে ‘জিম’ নামে পরিচিত এই অভিনেত্রী। ‘যত্ন’, ‘দোষটা কার?’সহ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল মাফতুহার। শাবানা ও শাবনূরের ভক্ত ছিলেন তিনি। তাঁদের সিনেমা দেখে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতেন। যদিও তাঁর শুরুটা হয়েছিল নাচ দিয়ে। পরে শিশুশিল্পী হিসেবে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনেও কাজ করেন।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান মাফতুহা। সিনেমাটিতে রানুর (জয়া আহসান) ছোটবেলার স্মৃতিচারণার অংশে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। তবে শৈশবের সেই অভিনয় নিয়মিত হয়নি। পড়াশোনার জন্য দীর্ঘ বিরতি নিয়ে ২০২৩ সালে নতুন করে অভিনয়ে ফেরেন তিনি।

বাবু সিদ্দিকীর পরিচালনায় ‘সিক্রেট গার্লফ্রেন্ড’ ছিল মাফতুহা জান্নাতের প্রথম নাটক। কীভাবে সেই সুযোগ পেয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে জিম বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে বাবু সিদ্দিকী ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। আমার অভিনয়ের আগ্রহের কথা জেনে তিনি সুযোগ দিয়েছিলেন। এভাবেই শুরু।’

এরপর মাবরুর রশিদ বান্নাহর ‘যত্ন’ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। নাটকটিকে নিজের অভিনয়জীবনের মোড় ঘোরানো কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন মাফতুহা। নাটকটির ইরা চরিত্র দর্শকেরা পছন্দ করেছিলেন। এখনো অনেকে তাঁকে ইরা নামে ডাকেন বলে জানান তিনি। আরশ খানের সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকের পছন্দ পাওয়ায় পরে সকাল আহমেদ নির্মাণ করেন ‘দোষটা কার?’ নাটকটি।

এ নাটকেও দর্শক তাঁদের জুটি পছন্দ করেন। চেনা ছকের বাইরে গিয়ে চরিত্রের জটিল মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তোলার সুযোগ পেয়েছিলেন জিম। কাজটি প্রকাশের পর সাধারণ দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পান তিনি, যা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল।

সম্প্রতি ‘বিষপাখি’, ‘পেট্রোল’ ও ‘আহা একি মায়া’ নাটকের কারণে আলোচনায় রয়েছেন জিম। তিনটি নাটকের গল্প ও চরিত্রে ভিন্নতা থাকায় প্রতিটির অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে আলাদা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দর্শক এখন একঘেয়ে গল্প দেখতে চান না। তিনটি নাটকের গল্প একটির চেয়ে অন্যটি সম্পূর্ণ আলাদা। রোমান্স, ড্রামা থেকে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার—বিভিন্ন ধরনের গল্পে দর্শক নতুনত্ব পেয়েছেন। প্রতিটি চরিত্রে চেষ্টা করেছি, সাধারণ মানুষ যেন নিজের জীবনের সঙ্গে চরিত্রগুলো মেলাতে পারেন। চরিত্রের চেনা রূপ ও বাস্তবতাই দর্শকদের মন ছুঁয়েছে বলে মনে করি।’

নতুন অভিনয়শিল্পীদের কাজের সুযোগ পাওয়া নিয়েও কথা বলেছেন মাফতুহা। তাঁর মতে, অনেক নির্মাতা ও প্রযোজক নতুনদের নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। ফলে শুরুতে একই ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব বেশি আসে। অভিনয়দক্ষতা প্রমাণের জন্য বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী চরিত্র পাওয়া নতুনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমাকেও এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুনদেরও প্রতিভা আছে। তাদের সুযোগ দেওয়া দরকার।’

নাট্যকলার পড়াশোনা অভিনয়ে শরীরী ভাষার গুরুত্ব বুঝতেও তাঁকে সাহায্য করেছে। এ বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘অভিনয়ে শুধু সংলাপ বললেই হয় না। চোখের ইশারা কিংবা শরীরের ছোট্ট কোনো অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। কীভাবে অতিরঞ্জন না করে একটি চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়, নাট্যকলার পড়াশোনা আমাকে তা শিখিয়েছে। স্ক্রিপ্ট পড়ার পর এর ভেতরের মূল ভাবনা বুঝতেও সুবিধা হয়। পরিচালকের চাওয়া অনুযায়ী অভিনয় করতে এটি অনেক সাহায্য করে।’

ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার কথা না জানালেও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ রয়েছে মাফতুহার। বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে, এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চান তিনি। সাদা-কালো বিভাজনের বাইরে মানুষের মনের নানা রূপ পর্দায় তুলে ধরার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের শক্তিশালী নারীদের গল্পও অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আনতে চান এই অভিনেত্রী।

 

মন্তব্য করুন