মোঃ নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১০:৩২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

স্বর্ণের বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার প্রভাবে আবার বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের তৎপরতায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর বাজার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) আগের লেনদেন পর্বে তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর স্বর্ণের দাম বাড়তে শুরু করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২০ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে শুক্রবার দাম কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৭৫ ডলারে নেমেছিল, যা গত ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।

স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ বব হ্যাবারকর্ন বলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি কম দামে স্বর্ণ কেনার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। ফেডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগপর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের আশপাশে থাকতে পারে বলে ধারণা তাঁর।

গত সপ্তাহে বেড়ে ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সোমবার তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তেলের বাজারে এ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হলেও সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ফেডের সুদের হারের সিদ্ধান্ত বুধবার ঘোষণা করার কথা। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর পর এবার তা অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ।

সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। এ কারণে ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফেডের কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহে সুদের হার না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপে ফেডের পছন্দের এই সূচক থেকে সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে নতুন ধারণা পেতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা।

এ ছাড়া ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনও বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজরে রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল দেশটির রাজস্বনীতি, শুল্ক, ভূরাজনৈতিক ব্যয় ও নীতিগত অনিশ্চয়তাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তা মূল্যায়ন করছেন তাঁরা। এসব বিষয় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার, ডলারের দর এবং স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে ওসিবিসির বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য করুন