মোঃ নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১২:৫২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সংঘাতের অনিশ্চয়তার মধ্যেও তেলের দামে পতন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়। তবে সৌদি আরবে হুথিদের নতুন হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ১১৪ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমে আসে।

এর আগে সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তেহরানে বৈঠক করেন। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা ছিল আলোচনার মূল লক্ষ্য। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চার দেশ আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে।

নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। এতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠা তেলের বাজারে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক হামলার পর ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারের ওপরে উঠে যায়। গত এপ্রিলের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম। সোমবারও তেলের দাম ১১৭ ডলারে পৌঁছেছিল।

তবে সৌদি আরবে হুথিদের নতুন হামলার কারণে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এএনজেড রিসার্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ, পরিবহন, মজুত ও তেল পরিশোধন খাতে চাপের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো কমেছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে পরিশোধিত জ্বালানির মজুত গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কম রয়েছে।

সূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মন্তব্য করুন