প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১০:৩৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানে প্রস্তাবিত পরবর্তী দফার দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে তেহরানের নেই। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল দেশটি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ এবং সাম্প্রতিক একটি জাহাজ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ও সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি আলোচনার জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনার প্রধান পূর্বশর্ত হলো ইরানের ওপর থেকে অন্যায্য মার্কিন অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের পাকিস্তানে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও ইরানের বন্দরগুলোতে ওয়াশিংটনের জারি করা কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে যখন গত রবিবার একটি মার্কিন বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজকে গতিরোধ করে সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ওই জাহাজটি পালানোর চেষ্টা করছিল। তবে তেহরান এই ঘটনাকে জলদস্যুতা ও চরম উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেছে এবং এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক তৎপরতার ফলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ ওয়াশিংটনের দাবিগুলোকে ‘অযৌক্তিক ও অবাস্তব’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, একদিকে কঠোর অবরোধ বজায় রাখা এবং অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া—যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বিমুখী নীতির মাধ্যমে কোনো ইতিবাচক ফলাফল আসার সম্ভাবনা নেই। যুদ্ধের আশঙ্কা এবং তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখে তেহরান এখন নিজের অনমনীয় অবস্থানে অটল রয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন