তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:১৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়: ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব

জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের তৈরি করা এক প্রাথমিক প্রস্তাবে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি সর্বনিম্ন ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এই প্রস্তাবটি বর্তমানে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানি আমদানিতে উচ্চব্যয়ের কারণে চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় সাড়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বিশাল ঘাটতি মোকাবিলায় এবং সরকারি ভর্তুকির চাপ কমাতে পিডিবি তিনটি বিকল্প পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে নিম্ন আয়ের ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের এই মূল্যবৃদ্ধির আওতামুক্ত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও অন্যান্য সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে মন্ত্রিসভার নথিপত্র অনুযায়ী, আগামী দুই বছর দাম না বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান জ্বালানি সংকটের মুখে সরকার বিকল্পহীন হয়ে এই পথে হাঁটছে। বর্তমানে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

এদিকে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে পিষ্ট ভোক্তারা বলছেন, বারবার গ্যাসের দাম বাড়ায় তারা এমনিতেই দিশেহারা; এখন বিদ্যুতের দাম বাড়লে তার প্রভাবে বাড়িভাড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়বে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই সংকট সমাধানে ভিন্ন পথ বাতলে দিচ্ছেন। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম মনে করেন, দাম না বাড়িয়ে বিদ্যুৎ খাতের অপচয় ও অযৌক্তিক ব্যয় বন্ধ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি পরামর্শ দেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ভরতা কমিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন