প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৫:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ-বাংলাদেশ। একটি নাটকের শুটিং সেটে বিরোধ ও মারধরের অভিযোগের জেরে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার একাধিক উদ্যোগ সফল না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
গত ৪ অক্টোবর তানজিন তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈকে পৃথক চিঠি পাঠায় সংগঠনটি। চিঠিতে বলা হয়, গত ৭ জুলাই তাঁদের সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুজনের কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই নোটিশের জবাব দেননি।
পরে সালিশবৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিনয়শিল্পী সংঘ-বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় তাঁদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সংগঠনের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিক্রিয়া জানান তানজিন তিশা। লাইভে তিনি শুটিং সেটের ঘটনা, অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশবৈঠক, সদস্যপদ স্থগিতের কারণ এবং বিগত সময়ের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সালিশবৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিশা বলেন, ‘বলা হয়েছিল— আমরা দুজনই যেন ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিই এবং একটি ভিডিওবার্তা পাঠাই। সে (সামিয়া অথৈ) ভিডিওটি দেয়নি। আমিও কোনো কারণে দিতে পারিনি। আমি নোটিশ অমান্য করেছি বলে আজ আমাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঠিক আছে।’
নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে অনেক কিছু দেখেছি, শাড়ি–কাণ্ডও দেখেছি। আজ হোক কিংবা কাল— সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি। আট মাস ধরে যত বাধাই আসুক, যা-ই ঘটুক, আমি থেমে নেই। আমি থেমে থাকব না। আমি হাল ছাড়ব না। এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথাটা বলতে পারছি। কারণ আমি জানি— আমি ভুল কিছু করিনি।’
তিশার অভিযোগ, পেশাগত বিরোধ মীমাংসার পরিবর্তে তা প্রকাশ্যে এনে কাউকে হেয় করা এবং তাঁর ক্যারিয়ারের ক্ষতি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা প্রচার শিল্পীদের জন্য কাজের পরিবেশ কঠিন করে তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, একটা জায়গায় কাজ করতে গেলে অনেকের সঙ্গে মতের অমিল থাকতে পারে, ঝামেলাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমি আগে সামাজিক মাধ্যমে গিয়ে সব বলে দেব কিংবা সাংবাদিকদের জানাব— যাতে কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়।
গত মার্চে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিংয়ে সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে বিরোধের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন তিশা। তাঁর দাবি, সেদিন শুটিং সেটে কী ঘটেছিল, তা উপস্থিত সবাই দেখেছেন। নাটকটির একজন শিল্পীর সঙ্গে তাঁর সমস্যা হয়েছিল এবং পুরো শুটিং ইউনিটের সদস্যরা ঘটনার সাক্ষী ছিলেন।
নিজের অভিনীত চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিশা বলেন, ‘আমার পাগলের চরিত্র তো আমি করেছি। নাকি আরেকজন পাগলের চরিত্র করেছে— সেটাও আপনারা দেখেছেন। কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। দৃশ্যটি দেখলেই বুঝবেন, কে আসলে ইম্প্রোভাইজ করেছে। কে আগে অ্যাটাক করেছে? কে অ্যাটাক করে নিজেকে নির্যাতিত হিসেবে দাবি করেছে; সেটি আপনারা বুঝতে পারবেন।’
ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী সংঘের উদ্যোগে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছিল বলেও জানান তিশা। সালিশবৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন, কী ঘটেছে— সবকিছু শোনা হয়েছে। সেই বৈঠকের নোটিশও আমার কাছে আছে, লিখিতভাবে আছে।’
মন্তব্য করুন