প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৩:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চলতি বছরের জুলাইয়ের ভয়াবহ বন্যায় বসতবাড়ি হারানো ২৮টি অসহায় পরিবারকে নতুন ঘর দিয়েছে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন সংস্থা ছওয়াব । দাতা সংস্থা নাহারের অর্থায়নে নির্মিত দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা ঘরগুলো গতকাল রোববার ( ৪ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছওয়াবের চেয়ারম্যান এস এম রাসেদুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন এবং বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হকসহ পুলিশের একটি দল।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, প্রকল্পের উপকারভোগী পরিবার এবং ছওয়াবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছওয়াব জানায়, চলতি বছরের জুলাইয়ে ভয়াবহ বন্যায় বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক পরিবার বসতবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। বন্যার পরপরই সংস্থাটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে জরুরি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা বিতরণ করে। পরবর্তী সময়ে আশ্রয়হীন পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নাহারের অর্থায়নে ২৮টি পরিবারের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়।
ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পর ছওয়াব ও ইসলামিক রিলিফের উদ্যোগে বাঁশখালীতে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাদের মধ্যে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীরা চলমান প্রকল্প থেকে পাওয়া সুবিধা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন।
এ সময় অতিথিরা তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন। তারা বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ছওয়াবের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং অর্থায়নের জন্য নাহারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
নতুন ঘর পাওয়া পরিবারগুলো জানায়, বন্যার পর তিন থেকে চার মাস তারা ঘরহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই কমেছে। এখন তারা নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখছে।
তবে শুধু আবাসন নয়, স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগও চান উপকারভোগীরা। এ জন্য তারা ছওয়াবের চেয়ারম্যানের কাছে অটোরিকশা, মুদি দোকান ও গবাদিপশু প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান এবং আয়বর্ধক কার্যক্রম চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের অনুরোধ করেন।
ছওয়াবের চেয়ারম্যান এস এম রাসেদুজ্জামান বলেন, মানবতার সেবায় এবং মানুষের কল্যাণে ছওয়াবের পথচলা অব্যাহত থাকবে।
ছওয়াবের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন শুধু জরুরি ত্রাণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপদ আবাসন, জীবিকার সুযোগ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই প্রকৃত পুনর্বাসনের লক্ষ্য। নাহারের সহযোগিতায় নির্মিত ২৮টি ঘর বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে সংস্থাটি আশা প্রকাশ করে।
মন্তব্য করুন