প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৩:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে বেতন পাবেন শ্রমিকরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী, নিরপেক্ষ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী বলেন, ‘অর্থনীতিতে পোশাকশ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। সরকার ও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ব্যাপারে আন্তরিক। তাই মজুরি বোর্ড গঠনের ৩ দিনের মধ্যে প্রথম সভা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আরেকটি সভা হতে পারে। সেই সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষকে লিখিত প্রস্তাব নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ করা হবে।’
গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে নতুন মজুরি কার্যকর হবে। জানুয়ারি মাসের বেতনের নতুন মজুরি হাতে পাবেন শ্রমিকরা। শিল্প মালিকরা এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।’
শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের অনেক অভাব-অভিযোগ আছে। না পাওয়ার বেদনা আছে। শ্রম আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া, ট্রেড ইউনিয়ন না থাকা, ছুটি না পাওয়া, ছুটি না পেয়ে মৃত্যুবরণ করা—নানান অভিযোগ আছে। সরকারকে আমরা অনুরোধ জানাবো, শ্রমিকদের মজুরির বাইরে যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো তারা নিষ্পত্তি করে বা শ্রম আইন যাতে বাস্তবায়ন হয়।’
আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বাবুল আখতার বলেন, ‘এই আন্দোলনের সাথে তৃতীয় পক্ষ আছে। এক্ষেত্রে শ্রমিক ভাইবোনদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। রাজনৈতিক কারণে, রাজনৈতিক ইন্ধনে অথবা অন্য কারো ইন্ধনে যাতে নিজেরা ক্ষতির শিকার না হন, শিল্পের ক্ষতি না করি। কারণ শিল্প সবার। রাজনীতি যারা করে বা রাজনীতিবিদরা তাদের স্বার্থ দেখবে। শ্রমিকদের স্বার্থ একটাই শিল্প টিকে থাকতে হবে, কাজ করতে হবে এবং তাদের ন্যায্য পাওনাটাও পেতে হবে।’
শ্রমিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে অংশ না নিলেও অনেক শ্রমিক নেতা ও সাধারণ শ্রমিককে গ্রেফতার করছে পুলিশ। কোনো শ্রমিক নেতাদের বা সাধারণ শ্রমিকদের গ্রেফতার করা না হয়। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের যাতে রিমান্ডে নিয়ে টর্চার করা না হয়। তাদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’
বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সবাই আন্দোলনরত শ্রমিকদের স্বার্থে কাজ করছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করতে মালিকরা একমত।’
মন্তব্য করুন