প্রকাশিত: ১৮ ঘন্টা আগে, ১২:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর দেশের বিমানবন্দরগুলোতে সারচার্জের হার কমানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এয়ারলাইন্সগুলোও মনে করছে, সারচার্জ কমানোর ফলে তাদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে এবং টিকে থাকা সহজ হবে।
এর আগে বিমানবন্দরের রানওয়ে ব্যবহার, কন্ট্রোল রুম, বিমান পার্কিং ও টার্মিনাল সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সারচার্জের হার ছিল অত্যন্ত বেশি। যেখানে ভারতে এই হার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ, ওমানে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৮ শতাংশ এবং পাকিস্তানে মাত্র ২ শতাংশ—সেখানে বাংলাদেশে সারচার্জ ছিল ৭২ শতাংশ। এই উচ্চ সারচার্জের কারণে দেশীয় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক চাপে ছিল এবং কয়েকটি এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে যায়।
২০২৬ সালে বিষয়টি আমলে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বিমান মন্ত্রণালয় বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সাতটি বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সারচার্জ এক ধাপে ৭২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সিদ্ধান্ত দেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “গত ২৯ বছর ধরে আমরা সারচার্জ কমানোর দাবি করে আসছি। বিগত সরকারগুলো বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ সুযোগটি দিয়েছে। সারচার্জ কমার ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং শিল্পটির স্থায়িত্ব বাড়বে।”
বিমানবন্দর ব্যবহারের চার্জ বকেয়া থাকলে আগে প্রতিমাসে অতিরিক্ত ৬ শতাংশ হারে জরিমানা যুক্ত হতো, যা বছর শেষে ৭২ শতাংশে দাঁড়াত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অতিরিক্ত অর্থের চাপ এভিয়েশন শিল্পের সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “দেশে জিএমজি এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মতো বড় এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল অতিরিক্ত সারচার্জ। এত বড় পরিমাণ সারচার্জ বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। তাই সারচার্জ কমানোর সিদ্ধান্ত দেশের বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
নতুন সিদ্ধান্তটি চলতি বছর থেকেই কার্যকর হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সারচার্জ কমলেও এর প্রভাব সরাসরি বিমান টিকিটের দামে পড়ার সম্ভাবনা কম।
কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “সিভিল এভিয়েশন চার্জ কমায় এয়ারলাইন্সগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে, তবে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত টিকিটের ভাড়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না।”
বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর কাছে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর মোট বকেয়া দেনা রয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশই সারচার্জ থেকে সৃষ্ট বকেয়া।
মন্তব্য করুন