রোববার   ৩০ নভেম্বর ২০২৫   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪৩২   ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
১৩

“শেষবিদায় নিচ্ছিলাম” – কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলার ভয়ঙ্কর ১৫ মিনিট

তরুন কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২৫  

গত শুক্রবার বিকেল। কৃষ্ণসাগরে এমটি কায়রোস নামের একটি তেলের ট্যাংকার শান্তভাবে এগোচ্ছিল। হঠাৎ তিনটি ড্রোন ছুটে আসে দ্রুতগতিতে। প্রথমটা আঘাত হানে প্রপেলারে – বিকট শব্দ, ঝাঁকুনি, ইঞ্জিন বন্ধ। ১০ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় ড্রোন আঘাত করে জ্বালানি ট্যাংকের কাছে। মুহূর্তে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। ১,১৬৩ টন জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ে জাহাজের চারপাশে – পানিও জ্বলতে শুরু করে।

জাহাজের ২৫ জন নাবিকের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশি:

  • মাহফুজুল ইসলাম (নরসিংদী) – চতুর্থ প্রকৌশলী
  • আল আমিন (কুষ্টিয়া) – ক্যাডেট
  • হাবিবুর রহমান (ধামরাই) – নাবিক
  • আজগর হোসাইন (সন্দ্বীপ) – নাবিক

তারা বলছেন, “লাইফবোট নামানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু বাতাসের ঝাপটায় সেটাতেও আগুন ধরে বিস্ফোরণ হলো। চারদিকে জ্বলন্ত তেল। লাইফ জ্যাকেট পরে আছি, কিন্তু সাগরে ঝাঁপ দিলে প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমে মরতাম। একজন আরেকজনের কাছে মাফ চেয়ে শেষ বিদায় নিচ্ছিলাম। মনে হয়েছিল – এটাই শেষ।”

তুরস্কের কোস্টগার্ডকে খবর দেওয়া হয়। তারা বলে, “এক ঘণ্টা লাগবে।” এর মধ্যে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে লাইফবোট পাঠানো হয়, কিন্তু জ্বলন্ত তেলের কারণে কাছে আসতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তুরস্কের কোস্টগার্ড এসে সবাইকে জীবিত উদ্ধার করে।

আজ তারা তুরস্কের একটি হোটেলে আছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা তুরস্কের শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। তারা নিরাপদে আছে – এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”

ইউক্রেন জানিয়েছে, এই ট্যাংকার দুটি রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহরের’ অংশ – যারা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহন করে।

যুদ্ধের মাঝে এই দ্বিতীয়বার বাংলাদেশি নাবিকরা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন। ২০২২-এ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে হাদিসুর রহমান শহীদ হয়েছিলেন। আজ চারজন বেঁচে ফিরেছেন – কিন্তু তাদের চোখে এখনো সেই জ্বলন্ত সমুদ্রের ছবি।

এই বিভাগের আরো খবর