প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৩:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রংপুরে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতেই গোসল, খাবার গ্রহণ এবং মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, গ্রেফতার দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। তারা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে দুই অভিযুক্ত ইয়াবা সেবনের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে এলে তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে এলে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলে তাদেরও একে একে হত্যা করা হয়। মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থীকে শ্বাসরোধে হত্যা করতে কয়েক মিনিট সময় লাগে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় রশি পেঁচানো হয়। ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাড়ির বাথরুমে গোসল করেন এবং ডাইনিং টেবিলে রাখা খাবার খেয়ে আবারও মাদক সেবন করেন। পরে হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ফেলে এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
তদন্তকারীরা জানান, তারা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে সম্ভাব্য আঙুলের ছাপ মুছে ফেলতে ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে রাখেন। পরে স্বর্ণালংকার একটি পরিত্যক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়, যা পুলিশ উদ্ধার করেছে।
ঘটনার পরপরই মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। পরদিন জুমার নামাজের সময় তুলনামূলক ফাঁকা অবস্থায় তারা সেখান থেকে সরে যান।
এ ঘটনায় রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন