আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:০৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

সেই ‘৭-১’ ব্যবধানেই কুরাসাওকে ওড়ালো জার্মানি, ভেঙে দিল ব্রাজিলের বিশ্বরেকর্ড

হিউস্টন, ১৫ জুন ২০২৬: ফুটবল বিশ্বে ‘৭-১’ বা উপমহাদেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত পরিচিত ‘সেভেন আপ’ স্কোরলাইনের এক নতুন পুনরাবৃত্তি ঘটালো জার্মানি। ২০১৪ সালের ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে এই ব্যবধানে হারিয়ে যে ক্ষতের জন্ম দিয়েছিল জার্মানরা, গত রবিবার (১৪ জুন) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে ঠিক একই ব্যবধানে নবাগত কুরাসাওকে বিধ্বস্ত করেছে তারা। আর এই দাপুটে জয়ের সুবাদেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বুক থেকে একটি অনন্য বিশ্বরেকর্ডও কেড়ে নিয়েছে জুলিয়ান নাগেলসমানের শিষ্যরা।

ব্রাজিলের বিশ্বরেকর্ড এখন জার্মানির দখলে

কুরাসাওয়ের বিপক্ষে এই ৭ গোলের সুবাদে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন এককভাবে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড জার্মানির পকেটে। ম্যাচটি শুরুর আগে এই রেকর্ডের শীর্ষে ছিল ব্রাজিল। ম্যাচে জার্মানির হয়ে জোড়া গোল করেন তারকা ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ। তাঁর পা থেকে আসা দ্বিতীয় গোলটিই মূলত জার্মানিকে বিশ্বকাপের গোলসংখ্যায় সেলেসাওদের টপকে শীর্ষে নিয়ে যায়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা শীর্ষ ৫ দেশ:

দেশের নাম

বিশ্বকাপের মোট গোল সংখ্যা

বর্তমান অবস্থান

জার্মানি

২৩৯

প্রথম

ব্রাজিল

২৩৮

দ্বিতীয়

আর্জেন্টিনা

১৫২

তৃতীয়

ফ্রান্স

১৩৬

চতুর্থ

ইতালি

১২৮

পঞ্চম

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে লজ্জাজনক বিদায়ের পর, তরুণ ডাচমাস্টার জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে এবারের টুর্নামেন্টে সম্পূর্ণ অন্য চেহারায় ফিরেছে ডাই ম্যানশাফটরা। চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে তরুণ এই কোচের অধীনে জার্মানি এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেবারিট।

  • হাভার্টজের নৈপুণ্য: কাই হাভার্টজ পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে জোড়া গোল করে দলের জয়ে মূল ভূমিকা রাখেন।

  • কুরাসাওয়ের ক্ষণিকের প্রতিরোধ: ফুটবল ইতিহাসের বৈশ্বিক এই মহমঞ্চে এবারই প্রথম খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে কুরাসাও। ম্যাচের ২১ মিনিটে লিভানো কোমেনেশিয়ার গোলে ১-১ সমতায় ফিরে তারা বড় চমকের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে হাভার্টজ ও বাকি সতীর্থরা মিলে পরবর্তীতে আর কোনো সুযোগই দেননি তাদের।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানিই একমাত্র দেশ, যারা চারবার বা তার বেশি ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৭ বা তার বেশি গোল দেওয়ার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছে। যার মধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটে আছে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল ম্যাচটি। কুরাসাওকে হারিয়ে সেই স্মৃতি যেমন তারা ফিরিয়ে আনলো, তেমনি নিজেদের ফুটবলীয় শ্রেষ্ঠত্বও আরও একবার প্রমাণ করলো জার্মানি।

মন্তব্য করুন