প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ভারতের কলকাতার তপসিয়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বসবাস করছেন এবং সেখানে বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এই মন্ত্রীর দেশে থাকা ব্যবসা ও সম্পত্তি থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বরাতে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নানকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর পরিচিত বিভিন্ন ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নানকের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান্দ বানু রয়েছেন কলকাতায়। তাঁদের মেয়ে এস আমরিন রাখি ও তাঁর স্বামীও ভারতে থাকেন, তবে তারা নিয়মিত নানকের সঙ্গে একই বাসায় থাকেন না। মাঝে মধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তপসিয়ার ওই ফ্ল্যাট থেকেই নানক দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং মাঝে মধ্যে ভিডিও বার্তা দেন বলে দাবি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নানকের দেশে থাকা বিভিন্ন সম্পত্তি ও ব্যবসা থেকে পাওয়া আয় হুন্ডির মাধ্যমে কলকাতায় পাঠানো হচ্ছে। এ কাজে বরিশাল নগরীর সদর রোড ও কাঠপট্টি এলাকার দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বাড়ি ও স্থাপনার ভাড়া সংগ্রহ করে ওই ব্যক্তিদের মাধ্যমে ভারতে অর্থ পাঠানো হয়।
এক আওয়ামী লীগ কর্মীর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত এজেন্টরা তপসিয়ার ফ্ল্যাটে গিয়ে নানকের কাছে টাকা পৌঁছে দেন। তবে এই বক্তব্যও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং এর স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে নানকের ২০০৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামার সম্পদের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের হলফনামায় নানক ও তাঁর স্ত্রীর মিলিয়ে প্রায় ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের হলফনামায় তাঁদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি টাকা দেখানো হয়।
এতে ১৬ বছরের ব্যবধানে ঘোষিত সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে হলফনামায় উল্লেখ না থাকা আরও কিছু সম্পদ—যেমন বরিশালের দোয়ারিকা সেতর এলাকায় জমি, নথুল্লাবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও জমির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব সম্পদের মালিকানা, প্রকৃত মূল্য এবং হলফনামায় সেগুলো যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি বা স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়নি।
অর্থ স্থানান্তর, সম্পদের পরিমাণ এবং কলকাতায় তাঁর জীবনযাপন নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পরিচিত ফোন নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
ফলে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানো, সম্পদের আয় বিদেশে নেওয়া এবং কলকাতায় ওই অর্থে বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগগুলো বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রতিবেদনের দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
মন্তব্য করুন