তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৯ মিনিট আগে, ০৩:২৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রংপুর শিক্ষক পরিবার হত্যাকাণ্ড

৮০ বারের ফোনালাপ হয় সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ‘পূর্বপরিকল্পনার’ গন্ধ পাচ্ছে ডিবি

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি হঠাৎ কোনো আকস্মিক অপরাধ নয়, বরং ‘পূর্বপরিকল্পিত’ ছিল বলে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আটককৃত দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করে এই জোরালো সন্দেহের কথা নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনার আগের ও পরের ৮০ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মোট ৮০ বার নিজেদের মধ্যে ফোনে যোগাযোগ করেছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের আগের মাত্র ১১ ঘণ্টাতেই সিদ্ধার্থ তাঁর দুটি নম্বর থেকে মুগ্ধর ফোনে ৩০ বার ছোট ছোট মেয়াদে কল করেছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক সংখ্যক ফোনালাপের এই ধরণ দেখে ডিবি ধারণা করছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কাজ করেছিল।

অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির রক্তের/প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করা হলেও তাঁদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এর আগে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ দাবি করেছিল—আসামিরা ইয়াবা সেবনকালে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সেবনের ৭ দিনের মধ্যে নমুনা না নেওয়ায় এবং ঘটনার ৯ দিন পর পরীক্ষা করায় রিপোর্টে মাদকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, মামলার সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে রংপুর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম আসামিদের দুদিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করার পর তদন্তভার বর্তমানে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন