তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৮ আগষ্ট, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শুধু অর্থের পেছনে না ছুটে আইনি দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের

অর্থবিত্তের পেছনে না ছুটে এবং শর্টকাট কিংবা দুর্নীতির পথ অবলম্বন না করে মেধা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির 'ল' গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত 'ফেলিসিটেশন প্রোগ্রাম ২০২৬'-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষার স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ ও কঠোর করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়, নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এ অবস্থানে এসেছেন।"

পরীক্ষায় কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় কোনো ধরনের নেপোটিজমের সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি আস্থা রেখে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যেতে হবে।"

আইন পেশার শুরুর চ্যালেঞ্জ ও ধৈর্য ধারণের ওপর জোর দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, "আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুরুতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকলেও ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিকও বাড়বে। তাই পেশাগত জীবনের শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে নিজেকে যোগ্য আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।"

পেশাগত নৈতিকতা ও অসদুপায় ত্যাগের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, "দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ অবলম্বন করে দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়। মেধা, সততা, নীতি-নৈতিকতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন আইনজীবীকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে।"

মক্কেলদের সেবা ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, "ক্লায়েন্ট ইজ এ ক্লায়েন্ট। ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে এবং পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, একজন আইনজীবীর দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে মামলা পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও তাদের সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব। পারিশ্রমিকভিত্তিক মামলার পাশাপাশি অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে আইনি সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইনজীবীদের নিয়মিত অধ্যয়ন ও ড্রাফটিং দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসাদুজ্জামান জানান, আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি এমন একটি আইনজীবী সমাজ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যা শিক্ষা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন। অনুষ্ঠান শেষে কৃতকার্য গ্র্যাজুয়েটদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন