তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:৩৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

একরামুল হত্যা মামলা

ট্রাইব্যুনালে ব্রি. জে. মিফতাহ ও সাবেক এমপি বদি

কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের কথিত 'ক্রসফায়ারে' পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেনাবাহিনীর একটি মাইক্রোবাসে করে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে নিয়ে আসা হয়। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের প্যানেলে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ২৬ জুলাই একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং অন্য মামলায় কারাবন্দি তিনজনকে হাজিরের জন্য 'প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট' জারি করে আজকের দিন ধার্য করেন।

মামলার অন্যান্য প্রধান আসামিরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউশনের অধীনে তদন্তাধীন কর্মকর্তা ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান।

আসামিদের মধ্যে আবদুর রহমান বদি, সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা আনোয়ার লতিফ ও মাহবুব আলম ইতোমধ্যে অন্যান্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন। আদালতের পরোয়ানা জারির পর ২৭ জুলাই রাতে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে।

প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর 'হোটেল নেটং'-এর সামনের সড়ক থেকে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হককে ডিজিএফআই ও র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই রাতেই টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়া সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভের নির্জন সাগরতীরে নিয়ে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে দায়ের করা এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, পরিকল্পনা তৈরি, ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, সাহায্য ও নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

মন্তব্য করুন