আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ ঘন্টা আগে, ১১:১৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের ইরান নীতিতে লাগাম টানার ‘যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব’ মার্কিন সিনেটে ফের নাকচ

ওয়াশিংটন, ১৭ জুন ২০২৬: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপ ও একতরফা যুদ্ধনীতির ওপর লাগাম টানতে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি ‘যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব’ (War Powers Resolution) আবারও নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা সিনেট। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সিনেটে এই প্রস্তাবের ওপর একটি হাড্ডাহাড্ডি ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাবটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়।

  • বিপক্ষে ভোট: ৪৮টি

  • পক্ষে ভোট: ৪৭টি

ভোটাভুটিতে মূলত দলীয় লাইনেই ভোট পড়েছে, তবে রিপাবলিকান শিবিরে কিছুটা ফাটল দেখা গেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে চারজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট শিবিরের একজন সিনেটর প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

‘আইনবহির্ভূত যুদ্ধবাজ আচরণ’: সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনক

ভোটগ্রহণের ঠিক আগে সিনেটের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে এক আবেগঘন ও জোরালো বক্তব্য দেন এই প্রস্তাবের প্রধান উত্থাপক ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনক। তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন:

“প্রেসিডেন্টের এই আইনবহির্ভূত যুদ্ধবাজ আচরণের ওপর লাগাম টানতে দয়া করে আমার সঙ্গে যোগ দিন। সঠিক কাজটি করার জন্য যে কোনো সময় বা মুহূর্তই উপযুক্ত। আমাদের নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতেই হবে

এই ভোটাভুটি এমন এক সময়ে হলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি নতুন সমঝোতা স্মারক বা ‘শান্তিচুক্তি’র চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। তবে হোয়াইট হাউসের এই গোপন কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান—উভয় পক্ষের সিনেটরদের মধ্যেই তীব্র সংশয় ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে, চুক্তির শর্তাবলি ও বিস্তারিত তথ্য সিনেটের সঙ্গে শেয়ার না করায় হোয়াইট হাউসের ওপর চরম ক্ষুব্ধ মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের আর মাত্র দুদিন বাকি থাকলেও, এর আগে প্রশাসন সিনেট সদস্যদের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। এই গোপনীয়তাই সিনেটরদের মধ্যে ক্ষোভের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন