প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সারপুকুরে সংঘবদ্ধ হামলা, গুরুতর আহত রবিউল ইসলাম

আরিফুল ইসলাম আরিফ 
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে সারপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রইসবাগ কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একই ইউনিয়নের রবিউল ইসলাম।
ভুক্তভোগী পরিবারের দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে টেপারবাজার এলাকায় মিজানুর রহমান মিজানের সঙ্গে প্রতিবেশী আতোয়ার রহমানের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় যুবক রবিউল ইসলাম উভয়পক্ষকে শান্ত করে বিরোধ মীমাংসা করেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে পরদিন ১৫ মে বিকেলে লকডাউন বাজার এলাকায় অতর্কিত হামলার শিকার হন রবিউল ইসলাম। এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রবিউলের ওপর হামলা চালায়।
হামলায় রবিউল ইসলামের একটি পা দুই জায়গায় ভেঙে যায় এবং অপর পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় দায়েরের প্রস্তুতিতে থাকা অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—১। মিজানুর রহমান মিজান (৪৫)২। একাব্বর আলী ৩।জয়নাল আবেদীন ৪। আতিকুল ইসলাম ৫। শামসুল হক 
সকলের বাড়ি আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস (ততী পাড়া) এলাকায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় রবিউল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয়। হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, “রবিউল ইসলাম দৌড়ে পালাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।”
এদিকে স্থানীয়দের অনেকে মিজানের এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, “যে মানুষ দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়েছিল, সেই মানুষকেই এভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হলো।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আহত রবিউলের পরিবার হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন