প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ০৪:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিমানবাহিনীর বরখাস্ত কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির লাশ রাজধানীর উত্তরার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল।
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় এক জুনিয়র সহকর্মীর ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। যাওয়ার আগে মাকে বলেছিলেন, একটু কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু এরপর পরিবারের সঙ্গে তাঁর আর যোগাযোগ হয়নি।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন প্রায় সারা দিন মায়ের সঙ্গে ছিলেন তাহসিফ। মা-বাবার জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে এক জুনিয়র বাসার নিচ থেকে ডাকলে মাকে বলে বাইরে যান তিনি। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
তাহসিফের মা একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাননি। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের কাছে একটি বার্তা পাঠান তাহসিফ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তাহসিফের বাবা জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিল, খারাপ কোনো খবর নেই। তবে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে নদীতে লাশ পাওয়ার খবর জানানো হয়।
রাজাবাড়ী ঘাটে কীভাবে তাহসিফের লাশ পাওয়া গেল, সে বিষয়ে তাঁর বাবা বিস্তারিত জানেন না। তিনি বলেন, সেখানে যেতে আটিপাড়া হয়ে যেতে হয়। ওই এলাকায় তাঁর ছেলে কখনো গেছেন বলে তাঁর জানা নেই। কারা বা কেন তাঁকে হত্যা করেছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
বিমানবাহিনী থেকে তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তাঁর বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা পরিবারকে জানানো হয়েছিল। তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি তাহসিফের বিভাগই নিশ্চিত করতে পারবে। বিভাগ থেকে শুধু জানানো হয়েছিল, শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
চাকরি হারানোর পর তাহসিফ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন বলেও জানান তাঁর বাবা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নেত্র নিউজে কাজ করার পর সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কর্মরত ছিলেন তিনি।
ছেলের বিষয়ে তাহসিফের বাবা বলেন, ছেলে অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিল। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি বা হুমকির বার্তা পরিবারকে জানাননি তাহসিফ।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ঘটনার কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্তের ফলাফলও দেওয়া উপকরণে উল্লেখ নেই।
মন্তব্য করুন