প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাবতলী, কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। একদিকে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়ানো, এই দ্বিমুখী চিন্তায় আগেই ব্যাগ গুছিয়েছেন ঘরমুখী যাত্রীরা।
সকালে গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের দীর্ঘ সারি। যাত্রীদের বড় একটি অংশ সরকারি ছুটির সঙ্গে ব্যক্তিগত ছুটি যোগ করে আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, সকালে বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়লেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে রাতের বাসগুলো দেরিতে পৌঁছানোয় টার্মিনালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
তবে যাত্রীদের বাড়ি ফেরার আনন্দকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি টিকিটে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, এমনকি কোথাও কোথাও ৮০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি আদায় করা হচ্ছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে, টিকিট কালোবাজারি আর তাৎক্ষণিক টিকিট পাওয়ার আশায় মরিয়া যাত্রীদের ভিড়। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ না দিলে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের টিকেট।
পরিবহন খাতের এই নৈরাজ্য নিয়ে গতকালই কথা বলেছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রেলপথ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দাবি করেছেন, "গত এক সপ্তাহে পরিবহণ মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া নিয়ে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি।" মন্ত্রীর মতে, "সাধারণত ভাড়া সরকারি নির্ধারিত সীমার মধ্যেই থাকে। তবে কোথাও কোথাও যাত্রীদের সর্বোচ্চ প্রায় ১০০ টাকা বেশি দিতে হতে পারে।"
তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে টার্মিনালের বাস্তব চিত্র সাংঘর্ষিক। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় আর প্রকাশ্য চাঁদাবাজির কারণে তাদের পকেট কাটছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র।
অনেকেই দীর্ঘ পথের ক্লান্তি দূর করতে ট্রেনকে বেছে নিলেও সেখানেও শান্তি নেই। অগ্রিম টিকিট কাটতে না পারা যাত্রীরা কাউন্টারে ভিড় করছেন এই আশায় যে, অন্তত দাঁড়িয়ে যাওয়ার একটি টিকিট মিলবে। যাত্রীদের মতে, ট্রেন যাত্রা আরামদায়ক হওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত ভিড় আর টিকিট কালোবাজারির ফলে সেই আনন্দ এখন যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার এই আনন্দযাত্রা কতটুকু স্বস্তির হবে, তা নির্ভর করছে প্রশাসনের কঠোর তদারকি আর পরিবহন মালিকদের সদিচ্ছার ওপর।
মন্তব্য করুন