প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০৬:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও অন্য কর্মকর্তাদের অশালীন আচরণ এবং মানসিক হেনস্তার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সাথে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তোলা ‘ওষুধ চুরির’ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে কমিটি।
ঘটনার সূত্রপাত:
তদন্ত প্রতিবেদন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ‘পাবলিক অ্যাসল্ট’ বা গণপিটুনির শিকার নাঈম (৩০) নামের এক রোগীকে পুলিশ সদস্যরা জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। জখমের বিবরণ ও রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করার পরামর্শ দেন।
অভিযোগের বিবরণ:
ভুক্তভোগী চিকিৎসকের অভিযোগ, রোগীকে রেফার করার কথা শুনেই মনোহরগঞ্জ থানার ওসি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং কোনো কারণ ছাড়াই চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন। তিনি অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় কথা বলেন এবং উপস্থিত সবার সামনে চিকিৎসকদের লক্ষ্য করে "চোর" ও "সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি করার" মতো মানহানিকর ও অশালীন অপবাদ দেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা রোগীকে হাসপাতালেই ফেলে রেখে চলে যান, যার ফলে রোগীর আইনি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া চরমভাবে বিঘ্নিত হয়।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ:
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহরিয়ার ইনাম খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। কমিটির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওসির নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ অপেশাদার এবং একজন গেজেটেড কর্মকর্তার প্রতি চরম অবমাননাকর। পুলিশের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও সুপারিশ:
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী জানান, "হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।"
তদন্ত কমিটি তাদের সুপারিশে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল চত্বরে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন।
এব্যাপারে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুর ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ডাক্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ঘটনার দিন গণপিটুনির শিকার এক রোগীকে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসা দিতে গড়িমসি শুরু করেন ডাক্তার, এক পর্যায়ে চিকিৎসা না দিয়ে রোগীকে রেফার্ড করে দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার। তিনি আরো বলেন হেনস্তার মত কোনো ঘটনা ঘটেনি শুধু রোগীর অবস্থা জটিল হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসা নিয়ে ডাক্তারে সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে।
মন্তব্য করুন