প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত এক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণসংলাপের বিষয় ছিল ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও বাস্তবায়ন’।
রিজভী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে হবে। কোনো খাতই জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না।’
দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অনেক দরিদ্র পরিবার বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। ফলে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যান দিয়ে হতদরিদ্র মানুষের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন।
রিজভী বলেন, ‘বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরূপণের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। এ বিষয়ে আয়োজকদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার মাধ্যমে নতুন ধারণা ও প্রশ্ন উঠে আসা প্রয়োজন। কোনো পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত সত্য ধরে না নিয়ে তা যাচাই-বাছাই করা জরুরি।’
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।’
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তবে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহসহ সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। দেশ এগিয়ে যাবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কেটে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতে অতীতের অনিয়ম ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে অতীতের অনিয়ম ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে।’
মন্তব্য করুন