রান্নু , গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৩৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

গোবিপ্রবির দুই ছাত্রী হলে চুরি, নিরাপত্তায় অবহেলার অভিযোগ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ছাত্রীদের আবাসিক হল বনলতা ও অপরাজিতায় গভীর রাতে চুরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা এবং আরেক শিক্ষার্থীর টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর হল দুটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভোররাতে বনলতা হলের বিভিন্ন কক্ষের জানালা খুলে চুরির চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। একই সময়ে অপরাজিতা হলেও চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের অভিযোগ ওঠে। এ সময় এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বনলতা হলের এক নারী শিক্ষার্থী জানান, তাঁর ল্যাপটপ নিয়ে পালানোর সময় নিরাপত্তারক্ষীর ধাওয়ায় সেটি ফেলে যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে হলের প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায় সে। তবে তাঁর ২ হাজার ৬০০ টাকা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে আবাসিক হলের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটেছে। রাতে হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে অপরাজিতা হলের প্রভোস্ট রেহেনা পারভীন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আহসান সৌরভ বলেন, নিরাপত্তারক্ষীদের সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তাঁদের বিরুদ্ধে বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রক্টরিয়াল বডি ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছাত্রীদের হলে চুরির ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অপূর্ব বিশ্বাস নামের এক নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও জানান, অপরাজিতা হলের উন্মুক্ত স্থানে দ্রুত প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অপরাজিতা হলের প্রভোস্ট রেহেনা পারভীন জানান, বনলতা ও অপরাজিতা হলের মাঝের রাস্তা প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হলের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের বসার ব্যবস্থা করা হবে এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলের প্রবেশপথ ও সীমানা সুরক্ষিত করা, রাতে নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

মন্তব্য করুন