তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দলান্ধদের পদ দিয়ে খুশি করছে সরকার: জামায়াতে ইসলামী

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। ছবি: সংগ্রহীত

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় লোকদের বসিয়ে তাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে সরকার- এমন অভিযোগ তুলেছেন আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য জাহিদুর রহমান।

বক্তব্যে আবদুল হালিম বলেন, ‘সময়ের পরিবর্তনে পরিবর্তন হবে, এ ক্ষেত্রে আমাদের ভিন্নতা নাই। আপনার পদত্যাগ করিয়ে দলীয় লোকদের বসাতে হবে! যিনি গত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ক্যাম্পিং করেছেন, পোস্টার করেছেন, দলীয় নেতাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন, তাঁকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর করা হয়েছে। এটার অর্থ হচ্ছে দলীয় লোকদের, দলান্ধদেরকে আজকে পোস্টিং দিয়ে খুশি করার জন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে, যেটা নিন্দনীয়।’

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তকেও তিনি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব ক্ষেত্রে জনমতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু নির্বাচন আয়োজনের পরিবর্তে সরকার প্রশাসক নিয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। তার দাবি, ২২ ফেব্রুয়ারি ছয়টি সিটি করপোরেশন এবং ১৪ মার্চ আরও পাঁচটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকেই নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি নেতা-কর্মী।

জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন আবদুল হালিম। তিনি বলেন, ‘সরকার ৪২টি জেলায় তাদের দলীয় লোক নিয়োগ দিয়েছে এবং দলীয় লোক যদি বিশিষ্ট নাগরিক হতেন, সেটা ভিন্নভাবে চিন্তা করার ছিল। কিন্তু দেখা যায়, যাঁরা বিপুল ভোটে হেরেছেন...যেমন গাইবান্ধা-৩  বিএনপির জেলা সভাপতি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটে হেরেছেন। তাকে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।’

এই সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর বিষয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সচল থাকা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, নিজেদের দলীয় লোকদের সামনে আনার জন্য এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা ‘গর্হিত কাজ’।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর চেয়ারম্যান এবং কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আবদুল হালিমের মতে, সংশ্লিষ্টদের যোগ্যতার ঘাটতি থাকলে সেটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত ছিল। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করেই এসব পদে নিয়োগ দিয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর পদে নতুন নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার বক্তব্য, অতীতে আর্থিক খাতে দক্ষ ব্যক্তিদের এই পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও এবার একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা বিরোধী দল হিসেবে জনগণের যে অগ্রাধিকার, সেটা তুলে ধরব। এর মাধ্যমে বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার যদি ভূমিকা রাখতে পারে, ভালো। না হলে আন্দোলন মাঠেও চলবে, সংসদও উত্তপ্ত হবে।’

মন্তব্য করুন