প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৩:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত জরুরি কূটনৈতিক বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত ও সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিসরের শীর্ষ কূটনীতিকরা।
বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পথের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে “সংলাপ ও কূটনীতি”ই একমাত্র কার্যকর সমাধান।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে চার দেশ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার পক্ষে সমর্থন জানানো হয়।
ইসহাক দার জানান, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ ইসলামাবাদে আয়োজনের প্রস্তাব তিনি বৈঠকে উত্থাপন করেছেন এবং এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের উদ্যোগের প্রতি তাদের আস্থাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে স্বাগত জানান এবং মুসলিম বিশ্বে সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও সংযমের প্রশংসা করেন।
এছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তির সঙ্গে বৈঠকেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন।
শাহবাজ শরিফ বলেন, ইরানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে চলমান সংঘাত জীবন, অর্থনীতি ও সম্পদের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সহিংসতা বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তিনি আরও জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, অংশগ্রহণকারী তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদ ছেড়েছেন। একই সঙ্গে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপ আয়োজনের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন