তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১০:৫১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে নিয়মিত পার্টির অভিযোগ, তদন্তে নতুন তথ্য

রাজধানীর ভাটারায় অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, মাদক গ্রহণের সামগ্রীসহ ৮৫ জনকে আটক করে। আটকদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী। আটকদের মধ্যে রয়েছেন কর্মরত ও সাবেক সরকারি-সামরিক কর্মকর্তাদের সন্তান, ব্যাংকার এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সন্তানেরা।

ডিএমপির সামারি কোর্টের আদেশে ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ১৫ দিন কারাভোগ করতে হবে। মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের এই বাড়ি থেকে ৫০ গজের মধ্যেই খিলক্ষেত থানার পুলিশ ফাঁড়ি। ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি (পিওএইচএস)-১-এ অবস্থিত ‘গোল্ডেন সানরাইজ’ নামের এই বাড়ির সামনে দিয়ে সারাক্ষণ পুলিশের যাতায়াত।

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভাড়া নিয়ে সেখানে মাদকসেবন ও ডিজে পার্টি হতো। সোমবার রাতের জন্মদিনের পার্টিটি ভুয়া ছিল বলেও জানায় তারা। বাড়িটি আসলে ডিজে পার্টির জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।

পার্টির জন্য গ্রাহক সংগ্রহে এয়ারবিএনবিতে একটি বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, ‘আগামী সোমবার, ১৯শে অক্টোবর আমরা একটি হাউজ পার্টি এবং রেইভের আয়োজন করছি! এটি একটি প্রাইভেট এবং আমন্ত্রণমূলক ইভেন্ট। তাই রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত গান বাজবে, সুতরাং চমৎকার ভাইবসহ সারা রাত গান ও নাচে মেতে ওঠার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান!’ বিজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘পার্টিটি একটি ট্রিপ্লেক্স হাউজে অনুষ্ঠিত হবে, যা পুলিশের একজন ডিআইজির মালিকানাধীন, তাই এখানে কোনো ধরনের পুলিশ রেইডের কোনো সম্ভাবনা নেই। আমাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত থাকবেন।’

ডিবি জানায়, বাড়িটিতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টি আয়োজন করা হতো। ২০২৫ সাল থেকে এসব আয়োজন চলছিল। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা এসব পার্টিতে যোগ দিতেন। ডিবির দাবি, এখান থেকে আয়ের ৭০ ভাগ যেত আবদুল্লাহ আল জহিরের অ্যাকাউন্টে। এ নিয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে নেই।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির বুধবার তাঁর কার্যালয়ে যুগান্তরকে বলেন, ‘অভিযানে গিয়ে দেখা গেছে ডিজে পার্টি চলছে। বাড়িটির বাইরে বেশকিছু গাড়ি ছিল। ২৬টি মেয়ে ছিল ইয়াং, অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছর। তারা বেশির ভাগই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িটির সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল খোদ অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির স্যারের কাছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

অভিযানে তিন বোতল মদ, কুশ (মাদক) ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ডিসি। এ ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মন্তব্য করুন