মোঃ নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১২:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নেতানিয়াহুকে পদত্যাগ করে রাজনীতি ছাড়ার আহ্বান আইজেনকোটের

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গ্যাডি আইজেনকোট। মঙ্গলবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষার ফল তুলে ধরে তিনি দাবি করেছেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে আস্থা হারিয়েছে।

মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে। এসব জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও তাঁর বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে কোনো পক্ষই নিশ্চিতভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

ইসরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। বুথফেরত সমীক্ষার কয়েকটি হিসাবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫১টি করে আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, আরবদের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রা’আম) মিলিয়ে ১৭ থেকে ১৮টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

লিকুদ পার্টি এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসার পূর্বাভাস থাকলেও দুই প্রধান জোটের মধ্যে আসনের ব্যবধান কম। তাই চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে সরকার গঠনের হিসাব স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা জানানো হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল। ভোটার উপস্থিতি ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছায়, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যেও ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে চ্যানেল ১২। এ হার আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। ঐতিহাসিকভাবে এই জনগোষ্ঠীর ভোটদানের হার তুলনামূলক কম থাকলেও এবার তাদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বাড়তে পারে এবং সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মানসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে তাঁর দলসহ নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৬১-তে পৌঁছাতে পারে। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে ও পরে দুই প্রধান জোটই তাঁর দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে বুথফেরত সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ী, কোনো জোটই নিশ্চিতভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর কোন পক্ষ সরকার গঠনের উদ্যোগে এগিয়ে থাকবে এবং আরব দলগুলো ক্ষমতার সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা স্পষ্ট হবে। আপাতত বুথফেরত সমীক্ষার ফল কোনো পক্ষের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করছে না।

সূত্র: আল-জাজিরা

 

মন্তব্য করুন