প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১২:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খালের পর এবার ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে উচ্চাভিলাষী মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির তেল নিয়ে চুক্তির সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
মঙ্গলবার টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে এক নির্বাচনি সমাবেশে ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে চুক্তির প্রশংসা করেন ট্রাম্প। এ সময় উপকূলে অবস্থানরত একটি তেলবাহী জাহাজের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, সেটিতে ভেনেজুয়েলা থেকে আনা ১০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। সমাবেশে তিনি তেল সরবরাহের এই চুক্তিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেলবিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে এই তেল সরবরাহের জন্য মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ বাড়ছে এবং দেশটিতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। তেলের সরবরাহের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। এরপর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তেল নিয়ে চুক্তি করে ওয়াশিংটন। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে চুক্তিটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছে না। দেশটির তেলসম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বাড়ানোর বিষয়টিও এ আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য অবশ্য নতুন নয়। এর আগে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছেন ট্রাম্প। এসব বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চলগুলোর নেতারা।
এদিকে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে চুক্তিকে নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে বলেও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স।
মন্তব্য করুন