প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১০:৫৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে দুই দেশ। তবে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরাইল ও তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনী মহড়া জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের পশ্চিমে অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে বিমান পরিচালনা করে হামলার কৌশল অনুশীলন করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বড় ধরনের আরেক দফা হামলা ইরানের অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটে ফেলতে পারে এবং তেহরানকে কূটনৈতিক আলোচনায় ছাড় দিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন; হামলার ফলাফল নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনায় অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। চলতি অক্টোবরেই হামলা চালানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি, যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি সপ্তাহে ইসরাইলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই আলোচনায় ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়টি উঠে এসেছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে বৈঠকে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না। ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। ফলে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা তৈরির খবর দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি হলেও তা বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করতে পারে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরাইল ও আনাদোলু।
মন্তব্য করুন