অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:১৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

‘আমাদের যারা এতিম করেছে, তাদের ফাঁসি চাই’

নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরের হত্যাকারীদের কোনো ছাড় না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার। স্বজনদের আহাজারি থামছে না। তাঁদের একমাত্র দাবি বিচার।

নিহতের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের যারা এতিম করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।’ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেফতারের জোর দাবিও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। তিনি ‘রূপসী বাংলা’ টেলিভিশনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। সেখানে তিনি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন।

লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তেলুঞ্জিয়া এলাকায় থাকতেন।

স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত আনন্দিতা সাংমা বলেন, ‘আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। যারা আমার দুই বাচ্চাকে এতিম করেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করা হোক। যাতে আর কোনো সন্ত্রাসী কাউকে এভাবে হত্যা করতে না পারে।’

তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন। স্বামীকে গুলি করার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, স্বামী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ময়নাতদন্ত শেষে লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরের লাশ নিজ গ্রাম শুনুইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির আঘাত রয়েছে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি।

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে একজন সাংবাদিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও শোক সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে। স্বজন ও সহকর্মীরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন