প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীর প্রতি যৌন হয়রানির অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা শুক্কুর মিঝিকে জুতাপেটা করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠুর চরমোহনা গ্রামের বাড়িতে আয়োজিত শালিস বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে মিঠু ছাড়াও রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকসহ উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্কুর মিঝি বলেন, মেয়েটির মা নেই, পরিবারটি গরিব। তাদের অনুরোধে ঘটনাটি মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে রায়পুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের দেবিপুর গ্রামের চালতাতুলি এলাকায়। ভুক্তভোগী কিশোরী (১৫) স্থানীয় জনকল্যাণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং ওই এলাকার বাসিন্দা। সকালে ময়লা ফেলতে ঘর থেকে বের হলে শুক্কুর পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে পাশের অটোরিকশা রাখার কক্ষে নিয়ে যান এবং যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। চিৎকার করলে তার খালা ও নানি এসে পড়ায় অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় কিশোরীর খালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শুক্কুর মিঝি ও তার মেয়ে জামাই জালাল উদ্দিন রানার নাম উল্লেখ করে। জালাল উদ্দিন উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় না নেওয়ার জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ পেয়ে রোববার সন্ধ্যায় শুক্কুর মিঝিকে বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তিনি সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে ছিলেন।
ভুক্তভোগীর খালা বলেন, আমার পরিবার অভিযুক্ত শুক্কুর মিঝি ও তার জামাতার লোকজনের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। ৩ থেকে ৪ জন সাংবাদিক ছাড়া আমাদের পক্ষে কোনো লোক কথা বলছেন না। শুক্কুর মিজির লোক সমঝোতার জন্য চাপসৃষ্টি করে আসছেন। তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয়ভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠুর বাড়িতে রাত ১০টায় শালিস বৈঠক বসে ১২টায় শেষ হয়। সেখানে এক লাখ টাকা জরিমানা ও জুতাপেটা করে আমাদের কাছে মাফ চাওয়ানো হয়। দলের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে আমরা এখনো টাকা পাইনি।
অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন রানা বলেন, আমার শ্বশুরকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। অভিযোগকারী আমার স্ত্রীর বান্ধবী। এজন্য ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার জন্য বলেছিলাম। আমার বিরুদ্ধেও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। এটা মিথ্যা।
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, শুক্কুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তিনি আটক নন। অভিযোগকারী থানায় মামলা করবে না বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হলেও ভুক্তভোগী পরিবার এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন